For the best experience, open
https://m.eimuhurte.com
on your mobile browser.
OthersWeb Stories খেলা ছবিঘরতৃণমূলে ফিরলেন অর্জুন সিংবাংলাদেশপ্রযুক্তি-বাণিজ্যদেশকলকাতাকৃষিকাজ বিনোদন শিক্ষা - কর্মসংস্থান শারদোৎসব লাইফস্টাইলরাশিফলরান্নাবান্না রাজ্য বিবিধ আন্তর্জাতিককরোনাএকুশে জুলাইআলোকপাতঅন্য খবর
Advertisement

সাংসদ খুনের তদন্তে কলকাতায় এলেন বাংলাদেশের গোয়েন্দারা

ইতিমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এবার ঘটনাটির আরও নিখুঁতভাবে তদন্তের উদ্দেশ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল কলকাতায় পৌঁছলেন।
12:20 PM May 26, 2024 IST | Susmita
সাংসদ খুনের তদন্তে কলকাতায় এলেন বাংলাদেশের গোয়েন্দারা
Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বর্তমানে বাংলাদেশের সাংসদ খুনের রহস্য নিয়ে রীতিমতো সরগরম এপার-ওপার দুই বাংলাই। চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ্যে এসেছে বাংলাদেশের ঝিনাইদহ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ আনোয়ারুল আজিমের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি। চলতি মাসের শুরুতেই তিনি কলকাতায় ঘুরতে এসেছিলেন। কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জিভা গার্ডেনের বি ইউ ব্লকের ৫৬ নম্বর ফ্ল্যাটে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে জানা যায়, তাঁর খুনের বিষয়টি পরিকল্পিত ছিল। খুন করার পর তাঁর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ট্রলিব্যাগে ভরে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে দুই বাংলাতেই। বাবা নিখোঁজ হওয়ার ক'দিন পরেই এমপির মেয়ে ডরিন ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। সঙ্গে কলকাতাতেও এই মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

ইতিমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এবার ঘটনাটির আরও নিখুঁতভাবে তদন্তের উদ্দেশ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল কলকাতায় পৌঁছলেন। সূত্রের খবর, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে দলে আরও দুই সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন- ওয়ারী বিভাগের ডিসি মো. আব্দুল আহাদ ও এডিসি শাহীদুর রহমান। রবিবার সকাল ১১ টা নাগাদ তাঁরা ফ্লাইটে করে কলকাতায় পৌঁছন। দুই দেশের গোয়েন্দাদের তৎপরতায় এবার আসল তদন্ত শুরু করবেন।

Advertisement

গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে এসেছিলেন এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। এরপর বরানগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে ওঠেন তিনি। পরদিন ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। এর ৫ দিন পর গত ১৮ মে বরানগর থানায় তাঁর নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করেন বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। এরপরও খোঁজ না মিললে বুধবার (২২ মে) খবরে আসে যে, কলকাতার পার্শ্ববর্তী নিউটাউন এলাকায় বহুতল সঞ্জীবা গার্ডেনস নামে একটি আবাসিক ভবনের বিইউ ৫৬ নম্বর রুমে আনোয়ারুল আজীম খুন হয়েছেন। তবে ঘরে মেলেনি তাঁর মরদেহ। এরপরেই পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, গত ১৩ মে পরিকল্পিত ও নৃশংসভাবে খুন করে তাঁকে টুকরো টুকরো করে কেটে ট্রলিব্যাগে ভরে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশি তদন্তে উঠে আসে আরও বিস্ফোরক তথ্য। জানা যায়, সাংসদ খুনের মাস্টারমাইন্ড হলেন আনোয়ারুল আজিমের ছোটবেলার বন্ধু তথা ব্যবসায়িক অংশীদার আখতারুজ্জামান শাহীন। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে এমপিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আক্তারুজ্জামান শাহীন। এ ছাড়া এই ঘটনায় সিলিস্তি রহমান নামে এক তরুণীও জড়িত। তাঁকে হানি ট্র্যাপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। সিলিস্তি নিজেকে মূল অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান শাহীনের বান্ধবী বলে দাবি করেছেন। এই খুনে তদন্তকারী অফিসারেরা জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান শাহীন আনোয়ারুল আজিমকে খুনের জন্য খুনিদের ৫ কোটি টাকা সুপারি দিয়েছিলেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওই তিনজন হলেন-চরমপন্থী দল পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা আমানউল্লাহ আমান, মোস্তাফিজ ও ফয়সাল। গত ৩০ এপ্রিল কলকাতায় যান শাহীন, আমান ও বান্ধবী সিলিস্তি রহমান।

নিউটাউন এলাকার সঞ্জীবা গার্ডেনের একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে ওঠেন তারা। তার আগেই কলকাতায় এসেছিলেন শাহীনের দুই সহযোগী সিয়াম ও জিহাদ। ওই ফ্ল্যাটে বসে সাংসদ আজিমকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। ১০ মে বাংলাদেশে ফিরে যান শাহীন। ঢাকার ডিবি সূত্রও বলছে, সিলিস্তি রহমান ১৫ মে বিমানে দেশে চলে যান। তার সঙ্গে দেশে ফেরেন মূল কিলার আমানুল্লাহ। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন এমপি আনারকে কলকাতা নিতে এই তরুণীকেই ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তাই খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে নিজের দুই ঘনিষ্ঠ মোস্তাফিজ ও ফয়সালকে কলকাতায় ডেকে পাঠান শাহীন। ১২ মে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে কলকাতায় পৌঁছন আনোয়ারুল আজিম। ১৩ মে কৌশলে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠানো হয় সাংসদকে। সেখানেই ওই মহিলাও উপস্থিত ছিলেন। ফ্ল্যাটে পৌঁছনোর পরে আক্তারুজ্জামান শাহীনের পাওনা টাকা মেটানোর জন্য আজিমকে চাপ দেওয়া হয়।

এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে সাংসদকে হত্যা করা হয়। পরে চাপাতি দিয়ে দেহ টুকরো-টুকরো করে কেটে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়।এ ঘটনায় বুধবার (২২ মে) ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। তিনি বলেন, ১১ মে তাঁর বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়। তারপরে বাবাকে আর ফোনে পাননি তিনি। তিনি পুলিশি অভিযোগে জানান, ১৩ মে আমার বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ আসে। মেসেজে লেখা ছিল- ‘আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সঙ্গে ভিআইপি আছে। আমি অমিত শাহের কাছে যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নেই। পরে ফোন দেবো। এছাড়া আরও কয়েকটি মেসেজ আসে। মেসেজগুলো বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে। এরপর থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় বাবার খোঁজখবর করতে থাকি। আমার বাবার কোনো সন্ধান না পেয়ে বাবার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস কলকাতার বারানগর পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করেন।'

Advertisement
Tags :
Advertisement