For the best experience, open
https://m.eimuhurte.com
on your mobile browser.
OthersWeb Stories খেলা ছবিঘরতৃণমূলে ফিরলেন অর্জুন সিংবাংলাদেশপ্রযুক্তি-বাণিজ্যদেশকলকাতাকৃষিকাজ বিনোদন শিক্ষা - কর্মসংস্থান শারদোৎসব লাইফস্টাইলরাশিফলরান্নাবান্না রাজ্য বিবিধ আন্তর্জাতিককরোনাএকুশে জুলাইআলোকপাতঅন্য খবর
Advertisement

সর্বহারা বিনয় তামাংয়ের ঠাঁই হল বাংলার সর্বহারা কংগ্রেসে

আর কয় ঘাটের জল খাবেন বিনয় তামাং? প্রশ ঘুরছে পাহাড়ে। বাকি থাকল শুধু বাম আর বিজেপি। আগামী দিনে এই দুই দলেও দেখা যেতে পারে তাঁকে।
03:56 PM Nov 26, 2023 IST | Koushik Dey Sarkar
সর্বহারা বিনয় তামাংয়ের ঠাঁই হল বাংলার সর্বহারা কংগ্রেসে
Courtesy - Google
Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানুষ রাজনীতিতে(Politics) নেমে মুখ বলে, সমাজসেবার জন্য এসেছি। আদতে লক্ষ্য থাকে নিজের রাজনীতির কেরিয়ারটাকে ঝাঁ চকচকে করে তোলা। কিন্তু কেউ যদি সেই ঝাঁ চক চকে রাজনীতি দিয়ে শুরু করে ক্রমশ হারিয়ে যেতে থাকে তাহলে তাঁকে কী বলবেন? এই প্রশ্নের এককথায় উত্তর একটাই, ‘ফ্লপমাস্টার জেনারেল’। একসময় এই নামেই টালিগঞ্জে ডাকা হত উত্তমকুমারকে। কেননা তাঁর পর পর ৭খানি সিনেমা ফ্লপ হয়েছিল। যদিও পরে সেই উত্তমই বাংলা সিনেমার কালজয়ী ‘মহানায়ক’ হয়ে ওঠেন। কিন্তু সবাই তো পারেনা উত্তমকুমার হতে। তাঁদের তখন এঘাট সেঘাটের জল খেয়ে বেড়াতে হয়। এই যেমন পাহাড়ের বাসিন্দা বিনয় তামাং(Binay Tamang)। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা(GJMM) দিয়ে যার রাজনীতি শুরু সে তৃণমূল(TMC) ঘুরে এবার পা রাখল কংগ্রেসে(INC)। কিন্তু তাতে লাভ কী হল? প্রশ্ন ঘুরছে দার্জিলিংয়ের(Darjeeling) পাহাড়ে।

Advertisement

বিনয় তামাং একসময় বিমল গুরুংয়ের হাত ধরেই পাহাড়ের রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায়। কিন্তু গুরুংয়ের বনধ, অবরোধ, খুনোখুনির রাজনীতির সঙ্গে তিনি মানিয়ে নিতে পারেননি। গুরুং যখন পাহাড়ে টানা বনধ ডেকে বেপাত্তা হয়ে যান তখন এই বিনয় তামাংই পাহাড়ে সেই বনধ তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পাহাড়ের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে বুঝিয়েছিলেন, কীভাবে গুরুং তাঁদের সঙ্গে প্রতারনা করে চলেছেন। ভয় ভাঙিয়েছিলেন পাহাড়বাসীর। পাহাড় ফিরেছিল স্বাভাবিক ছন্দেও। সেই কাজে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা তো পেয়েইছিলেন বিনয়, সেই সঙ্গে পাশে পেয়েছিল অনীত থাপাকেও, যিনি এখন পাহাড়ে জিটিএ চেয়ারম্যান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও বেশ সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বিনয়ের। রাজ্য সরকার তাঁকে জিটিএ চেয়ারম্যানও করেছিল। বিনয় তৃণমূলে যোগও দিয়েছিলেন। সবাই এটাই ভেবেছিল, বিনয়ের হাত ধরেই পাহাড়ে নতুন ভোর হবে। ভোর হল ঠিকই, কিন্তু বিনয়ের মতিভ্রমও হল। নিজেই পদত্যাগ করে দিলেন জিটিএ চেয়ারম্যান পদ থেকে। একসময় মোর্চাতেও ফিরে যান। কিন্তু সেখানেও বেশিদিন ঠাঁই হয়নি তাঁর। শেষে এদিন যোগ দিলেন কংগ্রেসে।

Advertisement

রবিবার কালিম্পং টাউন হলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেন বিনয়। তাঁর সঙ্গে পাহাড়ের আরেক নেতা হরকা বাহাদুর ছেত্রীও এদিন যোগ দিয়েছেন কংগ্রেসে। সেই কংগ্রেসে তাঁরা যোগ দিয়েছেন, বাংলার মাটিতে যাদের আজ আর সাইনবোর্ডটুকুও নেই। কার্যত সর্বহারা বিনয় এদিন যোগ দিলেন সর্বহারা কংগ্রেসে। বাংলার বিধানসভায় কংগ্রেসের না আছে কোনও বিধায়ক, না হাতে আছে কোনও জেলা পরিষদ। হাতে নেই কোনও পুরসভাও। সবেধন নীলমনি হ্যে রয়েছেন ২জন সাংসদ। সেটাও ২৪’র ভোটের পরে থাকবে কিনা সন্দেহ। সেই কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বিনয় তামাং এদিন কোন রাজত্ব পেলেন সেটা সময়ই বলবে। তবে অনেকেই মনে করছেন ২৪’র ভোটে বিনয় তামাং হয়তো প্রার্থী হবেন দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে। হতেই পারেন। কিন্তু ভোট পাবেন তো? পাহাড়ের ভোট তো এখন অনীত থাপার হাতে। সেই অনীত যার সঙ্গে সুসম্পর্ক বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের। আর যদি ভোট না পান বিনয়, তাহলে আগামী দিনে তাঁকে ফের দেখা যাবে অন্য কোনও দলে যোগদান করতে।

Advertisement
Tags :
Advertisement