For the best experience, open
https://m.eimuhurte.com
on your mobile browser.
OthersWeb Stories খেলা ছবিঘরতৃণমূলে ফিরলেন অর্জুন সিংবাংলাদেশপ্রযুক্তি-বাণিজ্যদেশকলকাতাকৃষিকাজ বিনোদন শিক্ষা - কর্মসংস্থান শারদোৎসব লাইফস্টাইলরাশিফলরান্নাবান্না রাজ্য বিবিধ আন্তর্জাতিককরোনাএকুশে জুলাইআলোকপাতঅন্য খবর
Advertisement

এ কী হাল বিজেপি! হিন্দু প্রভাবিত বুথেও মিলছে না নিশ্চিত ভোটার

রামমন্দিরের উদ্বোধনের কোনও প্রভাবই পড়েনি বাংলার মাটিতে ও জনমানসে! হিন্দু অধ্যুষিত বুথেও দলের স্বপক্ষে সুনিশ্চিত ভোটার খুঁজে পাচ্ছে না বিজেপি।
02:53 PM Feb 03, 2024 IST | Koushik Dey Sarkar
এ কী হাল বিজেপি  হিন্দু প্রভাবিত বুথেও মিলছে না নিশ্চিত ভোটার
Courtesy - Google
Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি: শাহি লক্ষ্য ৩৫। অথচ দলের কাছে যে রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে তাতে দেখা যাচ্ছে বাংলার হিন্দু প্রভাবিত জেলাগুলিরও(Hindu Dominated Districts) বহু বুথে মিলছে না পদ্মের স্বপক্ষে ভোট দিতে পারেন এমন ভোটারের(Sure Voters for BJP)। প্রথম দিকে এই দুর্দশা ঢেকে রাখতে বঙ্গ বিজেপির(Bengal BJP) তরফে তোলা হয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ। কিন্তু পদ্মশিবিরের বিস্তারকদের রিপোর্টে সেই দাবিও খন্ডন হয়েছে। বরঞ্চ স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে পদ্মশিবির থেকে মুখ ফিরিয়েছে বঙ্গবাসী। ২৪’র ভোটে(General Election 2024) শাহি লক্ষ্য মেনে ৩৫টি লোকসভা কেন্দ্র দখল করা তো দূরের কথা উনিশের ভোটে জেতা ১৮টি আসনই ধরে রাখা যাবে কিনা তা নিয়েও থাকছে বিস্তর প্রশ্ন। এমনকি রামমন্দিরের উদ্বোধনের(Inauguration of  Ram Mandir in Ayodhya) পরেও সেই ছবিতে কোনও বদল আসবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। হিন্দুত্বের মোড়কে বিজেপি ভোটে যেতে চাইলেও বাংলায় আসন প্রাপ্তির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, সেই বাস্তবতা স্বীকার করেই রিপোর্ট জমা পড়েছে অমিত শাহ আর জে পি নাড্ডার কাছে। খবর সূত্রের।

Advertisement

ঠিক কী হয়েছে? ২৪’র ভোটের মুখ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলার প্রতি বুথে ১জন করে পৃষ্ঠা প্রমুখ নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল। তাদের কাজ হতো, বুথে বুথে ঘুরে দলের সুনিশ্চিত ভোটারদের তালিকা তৈরি করা। সেই তালিকায় দলের সদস্য, তাঁদের পরিবার এবং দলের সমর্থক ও পরিবারের সদস্যদের নথিভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল, যদি তাঁরা সুনিশ্চিত ভাবে বিজেপির ভোটার হন তো। কোন বুথে কত নিশ্চিত ভোট আসতে পারে সেই ইঙ্গিত পেতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই নির্দেশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায় জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে, নানা পুরসভায় ময়দানে নেমে পৃষ্ঠা প্রমুখদের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে। কেননা তাঁরা হাজার হাজার বহু বুথে পদ্মের সুনিশ্চিত ভোটারই খুঁজে পাচ্ছেন না। এমনিতেই বাংলার সংখ্যালঘুরা বিজেপি বিমুখ। তাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে বুথে বুথে বিজেপি সুনিশ্চিত ভোটার খুঁজে পাওয়া যাবে না সেটাই স্বাভাবিক। তাই মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলি থেকে শাহ নাড্ডাদের বিশেষ কিছু আশাও ছিল না। কিন্তু তাঁদের নিরাশ হতে হয়েছে বাংলার হিন্দু প্রভাবিত এলাকাগুলিতেও। সেখানেও তাঁরা পদ্মের সুনিশ্চিত ভোটার খুঁজে পাচ্ছেন না। 

Advertisement

মজার কথা গত ২২ জানুয়ারি বিস্তর ঢাক-ঢোল পিটিয়ে যোগীরাজ্যে অযোধ্যার বুকে রামমন্দিরের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগে থেকেই বিজেপি এমন একটা ভাব দেখাচ্ছে যে রামমন্দিরের কাঁধে ভর দিয়েই ২৪’র ভোট বৈতরণী পার হয়ে গিয়েছেন তাঁরা। মোদির তৃতীয়বার সরকার গঠনও সুনিশ্চিত। ৪০০’র ওপর আসন নিয়ে কেন্দ্রে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে বিজেপিও। কিন্তু বাংলার বাস্তবের মাটিতে নেমে বিজেপিরই পৃষ্ঠা প্রমুখরা বুথে বুথে দলের সুনিশ্চিত ভোটারই খুঁজে পাচ্ছেন না। অর্থাৎ রামমন্দিরের উদ্বোধনের কোনও প্রভাবই পড়েনি বাংলার মাটিতে ও জনমানসে! যদিও বঙ্গ বিজেপির একাংশের দাবি, রাজ্যে দলের সংগঠন না থাকলেও প্রতিটি বুথে নির্দিষ্ট কিছু ভোটার রয়েছে। তারা পদ্মফুলেই ভোট দেবেন। ২০১৯সালের লোকসভা ভোটের আগে প্রতিটি বুথের ভোটারদের আগাম চিহ্নিত করা গিয়েছিল। তার ভিত্তিতেই সেইবার বঙ্গ বিজেপির তৎকালীন সভাপতি দিলীপ ঘোষ ১৮টি আসন হয়ের দাবি করেছিলেন। বাস্তবেও সেই সংখ্যকই আসন এসেছিল। কিন্তু এখন ছবি বদলেছে। দলে গোষ্ঠী কোন্দল বেড়েছে। কেন্দ্র সরকার একের পর এক প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে। সে সবের মাঝে পড়ে আর কেউ যেচে এগিয়ে এসে নিজেকে ও পরিবারকে বিজেপির ভোটার বলে তুলে ধরতে চাইছেন না। আর তাই পৃষ্ট প্রমুখরাও বহু বুথে ঘুরলেও দলের সুনিশ্চিত কোনও ভোটার খুঁজে পাচ্ছেন না।  

দলের এহেন দশা সামনে আসতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়তে বলা হয়েছে বঙ্গ বিজেপির কর্মীদের। সেই নির্দেশ এসেছে দিল্লি থেকে। বলা হয়েছে, দলের সুনিশ্চিত ভোটার চিহ্নিত করতে পারা যাচ্ছে না যে সব বুথে সেখানে মমতা বিরোধী পরিবার চিহ্নিত করুন। তাঁদের ভোট কোন দিকে যেতে পারে সেইদিকে নজর রাখুন। প্রয়োজনে পরিবারগুলির সঙ্গে মিশুন। তাঁদের সঙ্গে মনপ্রাণ খুলে কথা বলুন। তাঁদের অভাব-অভিযোগ থাকলে সেটার সমাধান করার চেষ্টা করুন। তাঁদের বিশ্বস্ত হয়ে উঠুন। তাঁদের আস্থা অর্জুন করুন। তারপর তাঁদের বোঝান ২৪’র ভোটে কেন বিজেপিকে ভোট দেওয়া প্রয়োজন। বাংলায় বদল কেন প্রয়োজন। আর সেই বদল যে বিজেপি ভিন্ন আর কেউ আনতে পারবে না সেটাও তাঁদের বুঝিয়ে বলুন। তারপর তাঁদের ভোট সুনিশ্চিত করুন। প্রতিটি বুথে তৃণমূলের বিরোধী পরিবার রয়েছে। বিশেষ করে একসময় যারা সিপিএম করত সেইসমস্ত পরিবারগুলির গতিবিধি দেখতে বলা হয়েছে বিজেপির কর্মীদের।

Advertisement
Tags :
Advertisement