For the best experience, open
https://m.eimuhurte.com
on your mobile browser.
OthersWeb Stories খেলা ছবিঘরতৃণমূলে ফিরলেন অর্জুন সিংবাংলাদেশপ্রযুক্তি-বাণিজ্যদেশকলকাতাকৃষিকাজ বিনোদন শিক্ষা - কর্মসংস্থান শারদোৎসব লাইফস্টাইলরাশিফলরান্নাবান্না রাজ্য বিবিধ আন্তর্জাতিককরোনাএকুশে জুলাইআলোকপাতঅন্য খবর
Advertisement

‘বিতর্কিত’ বিজেপি প্রার্থী, কাকলির টানা চার বার জয় অনেকটাই নিশ্চিত

12:43 PM May 29, 2024 IST | Sundeep
‘বিতর্কিত’ বিজেপি প্রার্থী  কাকলির টানা চার বার জয় অনেকটাই নিশ্চিত
Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আগামী পয়লা জুন শেষ তথা অন্তিম দফায় বারাসত লোকসভা আসনের ভোট। উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদরের আসনটিতে ভোট প্রচার তুঙ্গে উঠেছে। প্রতিপক্ষ শিবিরের দুই প্রার্থীর তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে বিদায়ী সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিজেপির প্রার্থী স্বপন মজুমদার আর বামফ্রন্টের সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় যখন নিজেদের অস্তিত্ব জাহিরের চেষ্টা চালাচ্ছেন, তখন চতুর্থবারের জন্য জয়ী হয়ে নয়া রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখছেন কাকলি। কেননা, চলতি লোকসভা ভোটে জয়ী হলে তিনিই হবেন প্রথম সাংসদ যিনি বারাসত আসনে টানা চার বার জয়ের নজির গড়বেন। দেওয়ালে-দেওয়ালে সেই বার্তাও প্রচার করছেন শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা।

Advertisement

স্বাধীনতার পরে বারাসত লোকসভা আসনের প্রথম নির্বাচনে (১৯৫৭ সালে) জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের অরুণ গুহ। প্রথম ১০ বছর তিনি সাংসদ ছিলেন। ১৯৬৭ সালে কংগ্রেসের হাত থেকে আসনটি ছিনিয়ে নেন সিপিআইয়ের তাত্ত্বিক নেতা রণেন সেন। তিনিও টানা ১০ বছর সাংসদ ছিলেন। ১৯৭৭ থেকে সাংসদ ছিলেন প্রবীণ ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা চিত্ত বসু। ইন্দিরা গান্ধির মৃত্যুর পরে ১৯৮৪ সালে এই আসন থেকে জয়ী হন কংগ্রেসের তরুণকান্তি ঘোষ। পরের ভোটেই আসনটি পুনরুদ্ধার করেন চিত্ত বাবু। টানা তিন বার জয়ী হন। এর পরে তৃণমূল কংগ্রেসের রঞ্জি‍ৎ পাঁজা টানা দু’বার সাংসদ হন। ২০০৪ সালে জয়ী হন নেতাজি পরিবারের সদস্য সুব্রত বসু। ২০০৯ সালে ফের ফরওয়ার্ড ব্লকের হাত থেকে আসনটি ছিনিয়ে নেন ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। গত ১৫ বছর ধরে সাংসদ রয়েছেন তিনি।

Advertisement

বারাসত লোকসভা কেন্দ্র যে সাতটি বিধানসভা নিয়ে গঠিত তার সবগুলিই রাজ্যের শাসকদলের দখলে। সংখ্যালঘু ভোটারদের পাশাপাশি উদ্বাস্তু বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশই এই আসনের ভোটার। হাবড়া, অশোকনগর, বিধাননগর, বারাসতের মতো বিধানসভা কেন্দ্রে গত কয়েক বছর ধরেই পদ্ম ফুলের উত্থান চোখে পড়ার মতো। খাদ্য দুর্নীতি মামলায় হাবড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের বন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বর্তমানে জেলে। তিনিই এতদিন জেলায় দলের নির্বাচন সামলাতেন। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম-সহ একাধিক ইস্যুতে শহর ও শহরতলী ঘেঁষা আসনটির শিক্ষিত ভোটাররা শাসকদলের প্রতি খানিকটা বিরূপ। বিরোধীদের সুবর্ণ সুযোগ ছিল, ইভিএমে সেই বিরূপতার প্রতিফলন ঘটানোর। গতবার মাত্র লক্ষাধিক ভোটে জেতা আসনটিতে অঘটন ঘটানোরও মওকা ছিল।

কিন্তু প্রার্থী বাছতে গিয়ে গোড়াতেই গলদ করে বসেছে বিজেপি এবং বামফ্রন্ট। পদ্ম শিবির যাকে প্রার্থী করেছে তিনি শুধু বহিরাগতই নন, যথেষ্ট বিতর্কিত। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মতো অভিযোগ রয়েছে বলে শুরু থেকেই প্রচার শুরু হয়। শুধু তাই নয়, বিজেপির দীর্ঘদিনের নেতা-কর্মীরাও হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন। মাদক পাচারে অভিযুক্তের হয়ে প্রচারে নামতে রাজি হননি। ফলে পোস্টার, ফ্লেক্সে বিজেপি প্রার্থীকে দেখা গেলেও মাঠে-ঘাটে দেখা মিলছে না। অন্যদিকে, বামেদের তরফে যাকে প্রথমে প্রার্থী করা হয়েছিল, তাকে বিজেপির সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন প্রার্থী করা হয়েছে বারাসত পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়কে। রাজনীতিতে পোড়খাওয়া হলেও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে মানুষের দরজায়-দরজায় পৌঁছতে পারছেন না তিনি। আর দুই প্রতিপক্ষের এমন দশা দেখে আড়ালে হাসছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা বিদায়ী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। গতবার মাত্র এক লক্ষ ১০ হাজর ভোটে জিতলেও এবার ব্যবধান দ্বিগুণ হবে বলে দাবি তাঁর। বারাসত লোকসভা আসন ঘুরে কোথাও তৃণমূলের বিরুদ্ধে চোরাস্রোত নজরে পড়েনি। তবে মানুষের মন বোঝা ভগবান শিবেরও অসাধ্য। এই ক্ষুদ্র কলমচি তো কোন ছাড়! তবুও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বারাসত লোকসভা আসনে তৃণমূলের লেখা দেওয়াল লিখেন, ‘পর পর চার বার, কাকলি দি ফর এভার’ সত্যি হতে চলেছে।

Advertisement
Tags :
Advertisement