For the best experience, open
https://m.eimuhurte.com
on your mobile browser.
OthersWeb Stories খেলা ছবিঘরতৃণমূলে ফিরলেন অর্জুন সিংবাংলাদেশপ্রযুক্তি-বাণিজ্যদেশকলকাতাকৃষিকাজ বিনোদন শিক্ষা - কর্মসংস্থান শারদোৎসব লাইফস্টাইলরাশিফলরান্নাবান্না রাজ্য বিবিধ আন্তর্জাতিককরোনাএকুশে জুলাইআলোকপাতঅন্য খবর
Advertisement

কালজয়ী গায়ক অনুপ ঘোষালের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ হৈমন্তী, শ্রীকান্ত, পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীদের

আর কিছু দিন থাকতে পারত, হয়তো সময় হয়ে গিয়েছিল। ওর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের উপর বিরাট দখল ছিল। সব রকমের গান গাইতে পারত। খুব মেধাবী ছিল।
01:06 PM Dec 16, 2023 IST | Sushmitaa
কালজয়ী গায়ক অনুপ ঘোষালের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ হৈমন্তী  শ্রীকান্ত  পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীদের
Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি: ১৫ ডিসেম্বর দুপুর দেড়টা নাগাদ প্রয়াত হয়েছেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি অনুপ ঘোষাল। যার দুর্দান্ত সৃষ্টি 'ভূতের রাজা দিল বর', 'আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে' শুনে শুনে বড় হয়েছে ৭০-৮০ দশকের মানুষ। ১৫ ডিসেম্বর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে প্রবীণ শিল্পী অনুপ ঘোষালের। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাংলার সঙ্গীত জগৎ। আর কেউ গাইবে না আইকনিক গুপি গাইন বাঘা বাঈন-এর স্মৃতিকতা। তবে স্মৃতির পাতায় থেকে যাবেন এই মানুষটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম। তাঁর সঙ্গে কাজের করেছেন বাংলার একাধিক তরুণ-প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পীরা। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন বাংলার আইকনিক সব সঙ্গীতশিল্পীরা, যার মধ্যে আছেন শ্রীকান্ত আচার্য, হৈমন্তী শুক্লা, পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী।

Advertisement

গায়িকা হৈমন্তী শুক্লা ছিলেন তাঁর সমসাময়িক। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নিয়ে তাঁর নাকি বড্ড খুঁতখুঁতে ছিল। গান গাওয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটিবিচ্যুতি ভারী পছন্দ করতেন না তিনি। অনুপের প্রয়াণের খবরে হতভম্ব হৈমন্তী। একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমক তিনি বললেন, ‘‘আর কিছুদিন থাকতে পারত, হয়তো সময় হয়ে গিয়েছিল। ওর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের উপর বিরাট দখল ছিল। সব রকমের গান গাইতে পারত। খুব মেধাবী ছিল। সত্যজিৎ রায় কেন তাকে দিয়ে গানগুলো গাইয়েছিলেন, তার গায়কিতেই স্পষ্ট। তেমনই ভাল নজরুলগীতি গাইত। ভুলভাল গাইলে রেগেও যেত। আমার সঙ্গে ওর একটা হৃদয়ের সম্পর্ক ছিল। আমাকে নিজের বোনের মতো দেখত। কখনও কখনও গানের মাঝে বলত, বেশি উঁচু স্কেলে না গাইতে। কারণ, অনেক দিন গাইতে হবে। গলার যত্ন নিতে বলত। গানের মাঝে ভাল চা পাতা দিয়ে চা করে খাওয়াত। এগুলো সবই প্রকৃত শিল্পীর পরিচয়। ও আমাকে এক বার ইলিশ মাছ রেঁধে খাইয়েছিল, সেই বাটিটা আজও আমার কাছে রয়ে গিয়েছে।’’

Advertisement

অন্যদিকে শ্রীকান্ত আচার্য একই সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, “আমার সঙ্গে ওঁনার মাত্র দু’বারই দেখা হয়েছে। তেমন ভাবে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল না। তবে অনুপবাবুর কথা উঠলে আমার বার বার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। তাঁর প্রয়াণের খবর পেয়ে মনে হচ্ছে, আমাদের ছোটবেলাটা চলে গেল। এই জায়গাটা আর পূর্ণ হবে না। শুধু ‘হীরক রাজার দেশে’ বা ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছবি নয়, তার পর যে ক’টা গান তিনি গেয়েছেন, সব ক’টা কিন্তু হিট হয়েছিল। আমি মা-বাবার সঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের ছবি দেখতে গিয়েছিলাম। সেই ছবির গানের ক্যাসেট নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম। সারা দিন বাড়িতে অনুপদার গান শুনতাম।”

এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে আলাপ ছিল এই প্রজন্মের অন্যতম পণ্ডিত গায়ক অজয় চক্রবর্তীর। তিনিও গায়কের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ‘‘ও ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছবির গানগুলির জন্য অধিক পরিচিতি পেয়েছিল। তবে আমরা কিন্তু ছবির মুক্তির আগে কলেজেই শুনে ফেলেছিলাম গানগুলো। কলেজে বসে বেঞ্চ বাজিয়ে গানগুলো গাইত। তখনও কিন্তু গান প্রকাশ হয়নি। অনুপ গাইত, আমাদের শোনা হয়ে যেত। ওর কথা বলতেই কলেজের এই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যায়। যদিও পরবর্তী কালে ওর সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। ওর প্রয়াণ ভীষণ দুঃখের।

মৃত্যুকালে অনুপ ঘোষালের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সঙ্গীত পরিবারে জন্ম তাঁর। অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে সঙ্গীতজীবনের শুরু অনুপ ঘোষালের। তবে তিনি খ্যাতি পান সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘হীরক রাজার দেশে’র মতো ছবিগুলির মাধ্যমেই। বাংলা ছাড়াও তিনি হিন্দি, ভোজপুরী, অসমিয়া ভাষায়ও অসংখ্য গান গেয়েছেন। তাঁর গানের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত গানগুলি হল, ‘মাসুম’ ছবির ‘তুঝসে নারাজ নেহি জ়িন্দেগি’, ১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছবির ‘দেখো রে নয়ন মেলে’, ‘ভূতের রাজা দিল বর’, ‘ও মন্ত্রী মশাই’। 

Advertisement
Tags :
Advertisement