For the best experience, open
https://m.eimuhurte.com
on your mobile browser.
OthersWeb Stories খেলা ছবিঘরতৃণমূলে ফিরলেন অর্জুন সিংবাংলাদেশপ্রযুক্তি-বাণিজ্যদেশকলকাতাকৃষিকাজ বিনোদন শিক্ষা - কর্মসংস্থান শারদোৎসব লাইফস্টাইলরাশিফলরান্নাবান্না রাজ্য বিবিধ আন্তর্জাতিককরোনাএকুশে জুলাইআলোকপাতঅন্য খবর
Advertisement

পাঁচামির ব্যাসাল্ট বিক্রি করে ৫ হাজার কোটি ঘরে তুলতে উদ্যোগী নবান্ন

কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলন এখন ঢেউচা-পাঁচামিতে সম্পূর্ণ ভাবেই অস্তমিত। এলাকার বাসিন্দাদের একটাই দাবি, জমি নিয়ে দ্রুত চাকরি দিন।
11:50 AM Dec 19, 2023 IST | Koushik Dey Sarkar
পাঁচামির ব্যাসাল্ট বিক্রি করে ৫ হাজার কোটি ঘরে তুলতে উদ্যোগী নবান্ন
Courtesy - Facebook and Google
Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে ক্ষমতাসীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) সরকারের শিল্পনীতির অন্যতম বড় উদাহরণ হয়ে উঠতে চলেছে বীরভূম(Birbhum) জেলার সিউড়ি সদর মহকুমার মহম্মদবাজারের ঢেউচা-পাঁচামির(Deucha Pnachami) কয়লা খনি শিল্প(Coal Mine Industry) প্রকল্প। কেননা মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো এখানে জমির দাম, পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং চাকরি পাচ্ছেন জমিদাতারা। কথা দিয়ে কথা রাখার উদাহরণ হয়ে উঠেছে ঢেউচা-পাঁচামি। মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন সেই পুনর্বাসন প্যাকেজ। আর সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন চোখের সামনে দেখতে পেয়ে এখন জমি দিতে চেয়ে আবেদন সংখ্যা দিনদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এলাকার বাসিন্দাদের একটাই দাবি, জমি নিয়ে দ্রুত চাকরি দিন। আর তাই বিরোধীদের মদত প্রাপ্ত কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলন এখন ঢেউচা-পাঁচামিতে সম্পূর্ণ ভাবেই অস্তমিত। তার মাঝেই এবার সামনে এল পাঁচামির ব্যাসাল্ট(Basalt Rock) বিক্রি করে ৫ হাজার কোটি ঘরে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। 

Advertisement

ব্যাসল্ট হল একটি অতি কঠিন পাথর। তাতে লোহা ও ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। ঢেউচা-পাঁচামি এলাকায় মাটির নীচে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মিটার পুরু ব্যসল্ট পাথরের চাদর রয়েছে। তার নীচে রয়েছে কয়লা। অর্থাৎ কয়লার নাগাল পেতে হলে আগে ব্যাসল্টের চাদর সরাতে হবে। ঢেউচা-পাঁচামিতে কত কয়লা মজুত রয়েছে, তার ধারণা ইতিমধ্যে দিয়েছে Geological Survey of India। ২০০৮ সালে একবার সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন কেন্দ্রীয় কয়লা প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ বাগরোডিয়া জানিয়েছিলেন, ঢেউচা-পাঁচামিতে কয়লার ৪টি জোন রয়েছে। তাতে ২০২৬ মিলিয়ন টন তথা ২০২.৬ কোটি টন কয়লা মজুত রয়েছে। তবে এর ওপরে ৩ থেকে ৫টি স্তরে রয়েছে ব্যাসল্টের চাদর। সব কিছু ঠিকঠাক চললে চলতি মাস থেকেই সেই ব্যাসল্ট পাথর তোলার প্রাথমিক কাজ শুরু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, ব্যাসল্ট পাথর তোলার জন্য এরই মধ্যে কয়েকটি এজেন্সি আগ্রহ দেখিয়েছে।   

Advertisement

ঢেউচা-পাঁচামির প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার মোট ১২.৩১ বর্গ কিমি জমি চিহ্নিত করেছিল। তার মধ্যে ৪২০ একর জমি সরকার ব্যাসল্ট পাথর তোলার প্রস্তুত করে ফেলেছে। এই ৪২০ একরের মধ্যে ২০০ একর সরকারি খাস জমি এবং বাকি ২২০ একর জমি ব্যক্তি মালিকানায় থাকা জমি। তবে ব্যক্তি মালিকানায় থাকা জমির অধিকাংশ সরকার কিনে নিয়েছে। বাকি অংশের জমির মালিকের থেকে বিক্রি করার সম্মতিপত্র পেয়ে গেছে সরকার। প্রথম ধাপে এই ৪২০ একর জমিতে ব্যাসল্ট পাথর তোলার কাজ শুরু করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ব্যাসল্ট পাথরের বাজারে চাহিদা প্রচুর। এই পাথর মূলত রাস্তা তৈরি, বাড়ি তৈরি, ব্রিজ তৈরিতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ৪২০ একর জমি থেকে প্রায় ১৪২ মিলিয়ন টন অর্থাৎ ১৪.২ কোটি টন ব্যাসল্ট পাথর পাওয়া যেতে পারে। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। এই টাকার পুরোটাই পেতে চলেছে রাজ্য সরকার। নবান্নের হিসাবে ঢেউচা-পাঁচামির প্রকল্পে কয়লাখনি শিল্পের প্রথম পর্যায়ে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে। তাই সেখানে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ লাভজনকই হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম কয়লাখনি শিল্প হয়ে উঠবে।

তবে এই শিল্প গড়ে ওঠার পথে নজর কাড়ছে রাজ্য সরকারের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ। মুখ্যমন্ত্রী সরকারিভাবে এলাকার জমিদাতা বাসিন্দাদের জন্য মানবিক প্যাকেজের ঘোষণা করেন। এরপর জেলা প্রশাসন সহমতের ভিত্তিতে এলাকায় গিয়ে মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জমি কেনার কাজ শুরু করে। শুরুতে কোথাও কোথাও কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে। কিন্তু প্রশাসন জোরপূর্বক জমি নেওয়ার পথে না হেঁটে সহমতের ভিত্তিতে আলোচনা চালিয়ে যায়। জমিদাতাদের জমি রেজিস্ট্রেশন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চেক তুলে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে প্রায় এক হাজার জনের বেশি জমিদাতাদের জুনিয়র পুলিসের কনস্টেবল ও গ্রুপ ডি পদে চাকরিতে যোগদান করানো হয়েছে। এরপর থেকেই বদলাতে শুরু করে গোটা এলাকার চিত্র। বাম সরকার যে শিল্পনীতিতে হেঁটেছিল, এই সরকার ঠিক তার বিপরীতে হাঁটছে। এলাকার বাসিন্দাদের জন্য শিল্প, এই ধারণা তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। সেই শিল্পনীতির বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে ঢেউচা-পাঁচামির কয়লাখনি প্রকল্প।

Advertisement
Tags :
Advertisement