For the best experience, open
https://m.eimuhurte.com
on your mobile browser.
OthersWeb Stories খেলা ছবিঘরতৃণমূলে ফিরলেন অর্জুন সিংবাংলাদেশপ্রযুক্তি-বাণিজ্যদেশকলকাতাকৃষিকাজ বিনোদন শিক্ষা - কর্মসংস্থান শারদোৎসব লাইফস্টাইলরাশিফলরান্নাবান্না রাজ্য বিবিধ আন্তর্জাতিককরোনাএকুশে জুলাইআলোকপাতঅন্য খবর
Advertisement

লোকসভা নির্বাচনে বিধানসভার শক্তিপরীক্ষায় খুশ তৃণমূল, টার্গেট এবার ২৫০

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের টার্গেট ২৫০। আর তাতেই চাপে পড়ে যাচ্ছে বিরোধীরা। চাপ বাম-কংগ্রেসেরও।
09:43 AM Jun 07, 2024 IST | Koushik Dey Sarkar
লোকসভা নির্বাচনে বিধানসভার শক্তিপরীক্ষায় খুশ তৃণমূল  টার্গেট এবার ২৫০
Courtesy - Google
Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে(Bengal) লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২। প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে আছে ৭টি করে বিধানসভা কেন্দ্র। সেই হিসাবে যখনই লোকসভা নির্বাচন হয় তখনই সেই নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে সামনে উঠে আসে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেরই মানুষের রায়ের প্রতিফলন। কটি আসনে কোন দল এগিয়ে আছে, কটি আসনে কোন দল পিছিয়ে আছে তা জানা যায় বেশ ভালভাবেই। ৩ দিন আগে প্রকাশিত হয়েছে দেশের বুকে ঘটে যাওয়া অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনের(Loksabha Election 2024) ফলাফল। আর তাতে দেখা যাচ্ছে বাংলার বুকে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে বাংলার শাসক দল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee) দল তৃণমূল কংগ্রেস(TMC) এগিয়ে ১৯২টি কেন্দ্রে। বিজেপি(BJP) এগিয়ে ৯০টি কেন্দ্র। বাম-কংগ্রেস জোট এগিয়ে ১২টি কেন্দ্রে। আর এই ফল দেখে বেশ খুশি তৃণমূল। কিন্তু উদ্বেগে পড়ে গিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। কেননা এই ছবি কার্যত রাজ্যের বুকে ২ বছর বাদে হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনে জমি হারানোর ইঙ্গিত তুলে ধরেছে। একুশের ভোটে আসা ৭৭ এখন কমে ৭০’র নীচে চলে গিয়েছে। আগামী ২ বছরে তা আরও কমবে। সেক্ষেত্রে ২৬’র বিধানসভা নির্বাচনে(Assembly Election 2026) বিজেপি ৫০টি আসনও জিততে পারবে কিনা তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। একইসঙ্গে বাম-কংগ্রেস(Left-Congress) জোটও বিধানসভায় ফিরতে পারবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

Advertisement

তৃণমূল খুশি কেন আর বিজেপিই বা উদ্বেগে কেন? বাংলার মাটিতে বিজেপি উত্থান ধরা পড়ে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে। সেই নির্বাচনে বিজেপি শুধু যে বাংলার বুকে ১৮টি লোকসভা কেন্দ্র দখল করেছিল তাই নয়, তাঁরা ১২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে লিডও তুলেছিল। ভুললে চলবে না, বাংলায় ক্ষমতা দখলের জন্য প্রয়োজন ১৪৮জন বিধায়কের সমর্থন। সেই হিসাবে বিজেপি সেই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ২৭টি আসনে দূরে ছিল। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল সারা রাজ্যে মাত্র ৩টি আসন। কিন্তু তার ঠিক ৩ বছরের মাথায় সেই বিজেপি ১২১টি বিধানসভা কেন্দ্রে লিড তুলেছিল। এই হিসাবই মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছিল পদ্মশিবিরের নেতাদের। তাঁদের ধারনা হয়েছিল, বাংলার মানুষ আর তৃণমূলকে চায় না। সেই ধারনার জায়গা থেকেই একুশের ভোটে অমিত শাহ শ্লোগান তোলেন, ‘আবকে বার ২০০ পার’।

Advertisement

সেই শাহি শ্লোগান নিয়ে সংখ্যাতত্বের দিক থেকেও কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। ওঠার কথাও নয়। কেননা মাত্র ৩ বছরের মধ্যে যদি ১১৮টি কেন্দ্রে লিড বাড়িয়ে নেওয়া যায় তাহলে পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে আরও ৭৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে কেন লিড তোলা যাবে না! কিন্তু যায়নি। সৌজন্যে বাংলার নিজের মেয়ে এবং বাংলার জনতা। দৌড় থেমেছিল ৭৭টি আসনেই। উনিশের ভোটে ১২১টি আসনে লিড তুলেও বিজেপির জয়রথ একুশের ভোটে থেমেছিল ৭৭টি আসনে। অর্থাৎ, ৪৪টি আসনে লিড ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল পদ্মশিবির। সেই লিড তাঁরা হারিয়েছিল মাত্র ২ বছরের মধ্যে। ২৪’র ভোটে বিজেপি বাংলায় লিড তুলেছে মাত্র ৯০টি কেন্দ্রে। উনিশের তুলনায় ৩১টি কম কেন্দ্রে সেই লিড এসেছে। আর এখানেই প্রশ্ন, উনিশের ভোটে ১২১টি আসনে লিড তুলে যদি একুশের ভোটে ৭৭টি আসনে জয় আসে তাহলে চব্বিশের ভোটে ৯০টি আসনে লিড তুলে ছাব্বিশের ভোটে কত আসনে জয় আসবে? ৫০টি আসনও আসবে তো?

তুলনায় বেশ স্বস্তিতে তৃণমূল। কেননা, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ২১১টি আসন। কিন্তু উনিশের লোকসভা ভোটে তাঁরা লিড তুলতে পেরেছিল ১৬৪টি কেন্দ্রে। অর্থাৎ ৪৭টি কেন্দ্রে তাঁরা পিছিয়ে পড়েছিল। একুশের ভোটে কিন্তু সেই পিছিয়ে পড়াকে মেকআপ দিয়ে জোড়াফুল জয় ছিনিয়ে এনেছিল রাজ্যের ২১৫টি কেন্দ্রে। পরে তা আরও বেড়েছে নানা উপনির্বাচনে। এবারের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল লিড তুলেছে ১৯২টি কেন্দ্রে। অর্থাৎ একুশের তুলনায় তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছে ২৩টি আসনে যা উনিশের তুলনায় কম। কার্যত অর্ধেক। সেই হিসাবেই তৃণমূলের হিসাব, উনিশের ভোটে ৪৭টি কেন্দ্রে পিছিয়ে পড়েও একুশের ভোটে যদি ২১৫টি কেন্দ্রে জয় ছিনিয়ে য়ানা যায়, তাহলে চব্বিশের ভোটে ১৯২টি কেন্দ্রে লিড ধরে রেখে কেন ছাব্বিশের ভোটে ২৫০ ছোঁয়া যাবে না! হ্যাঁ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের টার্গেট ২৫০। আর তাতেই চাপে পড়ে যাচ্ছে বিরোধীরা। চাপ বাম-কংগ্রেসেরও। কেননা একুশের ভোটে তাঁরা রাজ্যের বিধানসভা থেকে বিলুপ্ত। যদিও এই নির্বাচনে তাঁরা লিড তুলেছে ১২টি আসনে। সেটাও আবার সীমাবদ্ধ ৩টি জেলার মধ্যে। উত্তর দিনাজপুর, মালদা আর মুর্শিদাবাদ। এই লিড ধরে রেখে কী আদৌ বিধানসভায় ফেরা সম্ভব? নাকি ছাব্বিশের ভোটেও খালি হাতেই ফিরতে হবে! ভাবাচ্ছে তাঁদেরকেও।

Advertisement
Tags :
Advertisement